চাকরির প্রস্তুতি নেয়ার সেরা কয়েকটি টিপস

একটা ভালো এবং উন্নতমানের চাকরি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। চাকরি পাওয়ার জন্য দরকার শ্রম, ধৈর্য ও অধ্যাবসায়। স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে যেমন পড়াশুনা না করলে বা প্রস্তুতি  না থাকলে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না তেমন একটা চাকরি পেতে হলে অবশ্যই দরকার পড়াশুনা।

প্রথমেই আপনার একটা টার্গেট সেট করে ফেলুন। আপনার কেমন চাকরি পছন্দ বা আপনি কি কাজ করতে বেশি পছন্দ করবেন। যেমন সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি, ব্যাংকে চাকরি অথবা কোন কম্পানি। টার্গেট সেট করা হয়ে গেলে এইবার নির্দিষ্ট একটা প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যান।

ধৈর্যের প্রস্তুতি

প্রথমে একটা চাকরির জন্য আপনার যা প্রয়োজন তা হল ধৈর্য।  যদি আপনার পর্যাপ্ত ধৈর্য না থাকে তাহলে আপনি কখনো চাকরি পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবেন না। যতবারই আপনি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়ে যাবেন ততবারই কিছু না কিছু শিখবেন এবং নিজের ভুল গুলো পরবর্তী পরীক্ষার জন্য শুধরে নিতে পারবেন।

কিছু কিছু পরীক্ষায় অল্পের জন্য উত্তীর্ণ নাও হতে পারেন। এক্ষেত্রে ভেঙে পড়লে চলবে না আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে যত বাধাই আসুক না কেন। পড়াশুনার চাপ, ফ্যামিলির চাপ যখন সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন তখনি আপনি চাকরির যোগ্য হয়ে উঠবেন এবং নিজের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারবেন।

চাকরির জন্য পড়াশুনা

চাকরির পরীক্ষা গুলোতে কোথা থেকে প্রশ্ন আসবে তা কখনো বলে দেওয়া হয় না। কিন্তু কিছু বই আছে যেগুলো পড়লে আপনার ৫০-৭০% কমন পড়বে এবং বাকি প্রশ্নগুলো পাঠ্যবই থেকে কমন পড়বে।

সব থেকে সেরা বই গুলো হলঃ এমপিথ্রি, প্রফেসরস জব সলিউশন, ওরাকল জব সলিউশন, ওরাকল প্রিলিমিনারি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কম্পিউটার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা, ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত, মানসিক দক্ষতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, ভূগোল ও পরিবেশ,  বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, ইজি কম্পিউটার। এই বইগুলো কমপ্লিট করে ফেললে আপনি কম করে হলেও ১০০ তে ৭০ মার্কের উত্তর করতে পারবেন।

লিখিত ও এমসিকিউ

এছাড়া সম্প্রতি বিষয় গুলো জানার জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, সাম্প্রতিক সামিট, আলাল’স সাম্প্রতিক ১ : গ্রীন সিগন্যাল, টেকনিক  ইত্যাদি বইগুলো পড়তে পারেন যেগুলো খুবই কাজে দিবে আপনার পরীক্ষা গুলোকে সহজ করে তোলার জন্য।

প্রতিদিন কম করে হলেও ১০-১২ ঘন্টা পড়াশুনা করার জন্য প্রস্তুতি নিন। পাশাপাশি আর কোন কাজ রাখবেন না। টার্গেট রাখুন ৬ মাসের মধ্যে বইগুলো কম্পলিট করে ফেলবেন। আর আপনি যদি ১মাস পড়াশুনা করে ৭দিনের জন্য ঘুরতে চলে যান তাহলে সব ভুলে যাবেন কারণ আপনাকে প্রচুর তথ্য মাথায় রাখতে হবে যা প্রতিনিয়ত না করলে বারবার ভুলতেই থাকবেন।

এরপর রিভিসিন এবং পরীক্ষা দিতে থাকবেন। যখন আপনি আপনার নিজের দেয়া পরীক্ষা গুলো ১০০ তে ৯৫+ পাবেন তখন ধরে আপনি চাকরির পরীক্ষা গুলোর জন্য প্রস্তত।

বইগুলো শেষ করার রুটিন

চাকরির বই, সাধারণ জ্ঞান এবং কারেন্ট এফেয়ার্স পড়ার জন্য সময় ভাগ করে নিন। চাকরির বই ৫ ঘন্টা, সাধারণ জ্ঞান ৪ ঘন্টা এবং কারেন্ট এফেয়ার্সে ১ ঘন্টা করে সময় দিন। দেখবেন প্রথম মাসেই অনেকটা কভার করতে সক্ষম হয়েছেন।

এভাবে মোটামুটি ৪ মাসের একটা রুটিন তৈরি করে নিন এবং বাকি ২ মাস পরীক্ষা ও রিভিসন দিয়ে পুরো বইটা কমপ্লিট করে ফেলুন। তাহলে আর পরীক্ষার হলে আপনাকে কোন কিছুতেই আটকাতে পারবে না।

চাকরির এপ্লিকেশন করে রাখা

প্রতি সপ্তাহে চোখ রাখুন চাকরির খবরের কাগজ গুলোতে। কখন কোন সার্কুলার বের হয় সেটা নোট করে রাখুন এবং খুব তাড়াতাড়ি এপ্লাই করে রাখুন। এভাবে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫-৭ টা এপ্লাই করে রাখুন।

কারণ একেক পরীক্ষাতে একেক ভাবে প্রশ্ন আসে। তার যে কোনো একটাতে আপনার কমন পড়বেই। সরকারি হোক বা বেসরকারি যেকোন একটা চাকরি নিশ্চিত করুন তারপর নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যান।

বইগুলো শেষ করার রুটিন

লিখিত এবং এমসিকিউ

প্রতি সপ্তাহে একটি করে নিজের পরীক্ষা নিন। লিখিত এবং এমসি কিউ সকালে ও বিকালে সময় ঠিক করুন। এই সপ্তাহে যা পড়েছেন তা কতটুকু মনে রাখতে পেরেছেন তা যাচাই করুন। এবং কতগুলো এমসি কিউ ঠিক হয় সেটা লিখে রাখুন যেগুলো ভুল হবে সেগুলো আবার শুরু করুন। এভাবে আপনি লিখিত এবং এমসি কিউ তে পারফেক্ট হয়ে উঠবেন।

কোন চাকরিতে সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা

বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরি গুলোতে বেতন বেশি থাকলেও সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা পাবেন সরকারি চাকরি এবং ব্যাংকের চাকরিগুলোতে। সরকারি চাকরি মানেই সুন্দর ভাবে জীবন কাটানো। প্রতিদিন নিয়ম করে অফিস এবং সপ্তাহে ২দিন ছুটি মাসিক ৮ দিন এছাড়া বছরে ঈদ সহ ৮৪ দিন ছুটি পাবেন।

বেসরকারি চাকরি গুলোর মত সরকারি চাকরিগুলোতে অফিস শেষে বাসায় গিয়ে কাজ করতে হয় না। সময়মত কাজ গুলো করতে পারলে বছর শেষে প্রমোশনের ও সুযোগ থাকে। চাকরি থাকা অবস্থায় নিজেকে আরো প্রস্তুত করে নিতে পারবেন উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার জন্য।

উপসংহার

চেষ্টা ছাড়া সাফল্যে পৌঁছাতে পারা এমন সম্ভব তেমনি বই পড়া ছাড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা অনেকটাই অসম্ভব। বেশি বেশি বই পড়ুন নিজের আত্ববিশ্বাস অর্জন করুন, সাফল্য আপনার কাছে ধরা দিবেই। চেষ্টা করুন নিজের ভবিষ্যৎ আরো সুন্দর করুন। প্রথম পরীক্ষায় পাশ না করতে পারলে হতাশ হবেন না ধৈর্য ধরুন সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আপনার চাকরির জন্য রইল শুভকামনা।

2 thoughts on “চাকরির প্রস্তুতি নেয়ার সেরা কয়েকটি টিপস”

Leave a Comment