১০টি সেরা এন্ড্রয়েড এপস টিপস এন্ড ট্রিক্স

১০টি সেরা এন্ড্রয়েড এপস টিপস এন্ড ট্রিক্স যা আপনাদের প্রতিনিয়ত দরকার হয় ডিজিটাল যুগে। আমার ফোনের পেছনে আমি যদি হাত দিয়ে ২ বার টাচ করি তাহলে ফ্লাশলাইট টা জ্বলে যাবে আবার যদি ২ বার টাচ করি তাহলে নিভে যাবে। এভাবে আবার ৩টা টাচ একসাথে করলে একটা স্ক্রিণশট উঠে গেল।

তো আজকে আমি আপনাদের কাছে শেয়ার করব এমন ১০ টি টিপস ও ট্রিক্স এবং এপের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব। যেগুলো আশা করি আপনাদের অনেক কাজে আসবে। 

১. গুগল এপস

গুগল ডকস, গুগল ড্রাইভ, গুগল স্লাইড, গুগল শিট, গুগল কিপ এই এপ গুলো অলরেডি এন্ড্রয়ডে উপলব্ধ এবং এগুলো প্রায় মাইক্রোসফট অফিসের মত কাজ করে।

কিন্তু মাইক্রো সফট অফিস থেকে গুগলের এপস গুলো অনেক অনেক ভালো। তার কারণ হলো গুগলের সব গুলো এপসই অনলাইনে কানেক্টেড। তারমানে ইন্টারনেট রিলেটেড অনেকগুলো সার্ভিস আপনারা পাবেন।

প্রথমত, অটোমেটিক্যালি আপনার লেখাগুলো সেইভ হয়ে যাবে। আপনি যখন টাইপ করতে থাকবেন তখন আর সেইভ করা নিয়ে কোনো চিন্তায় থাকতে হবে না, যেটা মাইক্রোসফটের এপস গুলোতে নেই।

গুগল এপস

দ্বিতীয়ত, আপনি ফাইলগুলো যে কারো সাথে সহজেই শেয়ার করতে পারবেন। চাইলে ওপেন শেয়ার দিতে পারেন আবার আবার আপনার কাছে রিকুয়েষ্ট করে পারমিশন নিবে এভাবেও শেয়ার দিতে পারেন। 

এপগুলো কলোবোরেট করতে পারবেন খুব সহজেই যেটা অন্য কোথাও নেই। তবে মাইক্রোসফট ৩৬৫ কিনতে পারলে এই সুবিধা পাবেন যেটা খুবই দামী একটা জিনিস।

আর এই সবগুলো সার্ভিসই কিন্তু গুগলে ফ্রী পাচ্ছেন যেটা আপনি রিমোটলি হাটে, মাঠে, বাজারে, বাসে যেখানে খুশি সেখানে বসেই ওয়ার্ড প্রোসেসিং এর কাজ করতে পারবেন যেটা এমনিতেই সেইভ হবে।

২. নোটিফিকেশন হিস্ট্রি লগ 

অনেক সময় হয় যে একটা নটিফিকেশন আসলো এবং আমরা না দেখে সেটাকে ক্লিয়ার করে দেই। তখনই মাথায় আসে এটা তো কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত বা আমার চেক করা দরকার ছিলো কিন্তু সেটা আর খুজে পাই না।

তাই এই এপটি যদি আপনার ইন্সটল থাকে তখন এপের ভিতরে গিয়ে যে নোটিফিকেশন টা আপনি রিসেন্টলি ক্লিয়ার করে দিয়েছিলেন সেটা আবারো পড়তে পারবেন।

যার মানে, আপনি যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো নোটিফিকেশন মিসড করে ফেলেন তাহলে সেটি কিন্তু এখানে থেকে যাবে। এই এপটি কে রিসাইকেল নোটিফিকেশন সেন্টার বলা যেতে পারে। 

৩. ট্যাপ ট্যাপ

এই এপটির মাধ্যমে আপনি ফোনের টেস্টার কন্ট্রোলের মাধ্যমে কিছু একশন এক্সিকিউটিভ করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে যদি ফোনের পিছন সাইডে আমি ডাবল টাচ করি তাহলে ফ্ল্যাশ লাইট জ্বলে যাবে আবার যদি ডাবল ট্যাপ করি তাহলে ফ্ল্যাশ লাইট টা নিভে যাবে।

এন্ড্রয়েড ১১ ভার্সনে এই অপশন টি ডিফল্ট হিসেবে ইনাবল করা থাকবে তখন আর এই এপসটির দরকার হবে না। যতদিন না এন্ড্রয়েড ১১ আসছে ততদিন আনন্দে উপভোগ করুন।

৪. গুগল ম্যাপ

আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা গুগল ম্যাপের মধ্যে কোনো একটা স্পেসিফিক এরিয়া বা সিটি ডাউনলোড করে রাখা যায় অফলাইন নেভিগেশনের জন্য। যেমন কোনো একটা অপরিচিত লোকেশনে গিয়ে আপনি লক্ষ্য করলেন আপনার ফোনে ব্যালেন্স নেই অথবা যথেষ্ট নেটওয়ার্ক নেই ম্যাপ দেখার জন্য।

তখন কিন্তু আর নেভিগেট করতে পারবেন না তাই আগে থেকেই সেই শহরের এরিয়া টাকে আপনি ডাউনলোড করে রাখতে চান তাহলে কিন্তু অফলাইনে নেভিগেট করতে পারবেন।

গুগল ম্যাপস

৫. টাইল শর্টকাট

নোটিফিকেশন প্যানেল কে আরো সহজলভ্য করার জন্য ব্যাবহার করা হয় টাইল শর্টকাট। মনে করেন আপনি নোটিফিকেশন প্যানেল থেকে সরাসরি কোনো এপস এ চলে যেতে পারেন তাহলে কেমন হবে? এই এপটি আপনার সেই কাজটি করতে সাহায্য করবে।

মনের মত করে একটি টাইল তৈরি করে নিবেন এবং যে এপটি ওপেন করতে চান সেটি দিয়ে দিবেন, তারপর সেটি নোটিফিকেশন অপশনে দিয়ে দিন। কাজ শেষ, আশা করি এটি আপনাদের অনেক কাজে লাগবে।

৬. গুগল লেন্স

গুগল লেন্স সম্পর্কে হয়ত অনেকেই জানেন কিন্তু যারা জানেন না তাদের জন্য এটা চমৎকার একটি ব্যাপার। অনেকের ফোনের ক্যামেরার ইউ আই তে দেখবেন গুগল লেন্স ইন্টিগ্রেট করা আছে আর যাদের নাই তারা গুগল প্লে স্টোর থেকে ইজিলি ডাউনলোড করতে পারবেন। 

গুগল লেন্সের কাজ হচ্ছে এটি একটি ক্যামেরা এপ যেটি ওপেন করে যেকোনো অবজেক্ট কে যদি স্ক্যান করেন তাহলে সেই অবজেক্ট এর সকল ডিটেইলস আপনি পেয়ে যাবেন।

মনে করেন,আপনি একটি গাছ বা ফুলের নাম জানেন না তখন আপনি গুগল লেন্স দিয়ে স্ক্যান করলে সেটির নাম ডিটেইলস সব জানতে পারবেন। এছাড়া ইলেকট্রনিকস জিনিস গুলো কোনো স্ক্যান করার সাথে সাথেই রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। 

৭. মাইক্রোসফট ম্যাথ সলভার

এই এপটি দিয়ে আপনি যদি কোনো ম্যাথম্যাটিক ইকুয়েশন কে স্ক্যান করেন সেই ইকুয়েশনের সলিউশন টা চলে আসবে উইথ ব্রেকডাউন। আপনারা অনেকে হয়ত জানেন ফটো ম্যাথ নামে আরেকটি এপ আভহে যেটি দিয়েও সেইম কাজটা করা যায় কিন্তু ফটো ম্যাথ এপ থেকে মাইক্রোসফট ম্যাথ সলভার অনেক বেশি ভালো এবং নির্ভূল।

৮. গুগল ভয়েস এসিস্ট্যান্ট

গুগল ভয়েস মূলত আমরা ইউজ করি ভয়েজ কমান্ডের জন্য। তবে বেশ মজার একটি ফিচার এর মধ্যে বিদ্যমান। মনে করেন আপনি কোথাও একটা গান শুনলেন কিন্তু গানটির নাম জানেন না।

তখন আপনি খুজে বের করুন সার্চ ফর এ সং অপশন টি। অপশনটি ওপেন করে গানটি শুনিয়ে দিলে গানটির নাম এবং আইডেন্টিটি  সহ গানটি শোনার ব্যাবস্থা করে দিবে। ইন-বিল্ড এই ভয়েস এপটির জন্য আপনাকে আলাদা করে কোনো এপস ও ডাউনলোড করতে হবে না।

গুগল ভয়েস এসিস্ট্যান্ট

৯. স্ক্রিন পিনিং

আপনার কোনো বন্ধু যদি ইউটিউব দেখার জন্য আপনার কাছে থেকে ফোনটি নেয় তবে আপনি হয়ত কিছু বিব্রত হবেন এবং চিন্তা করবেন সে কখন যেনো ইউটিউব না দেখে গ্যালারিতে গিয়ে পারসোনাল ডাটে দেখে ফেলে। এর সমাধান পাওয়ার জন্য এই ট্রিক্স টি কাজে লাগাতে পারেন যা আপনাকে অনেক বেশি সাহায্য করবে প্রাইভেসি প্রোটেক্ট করার জন্য।

মাক্সিমাম ফোনেই এটি ইন-বিল্ড দেয়া আছে। এটা অন করার জন্য সেটিংস এ চলে যান তারপর সার্চ করুন স্ক্রিন পিনিং লিখে। তারপর সেটি অন করে দিন। অন করার পরে আবার ইউটিউব অন করুন এবং রিসেন্ট এপ গুলো ওপেন করলে একটি পিন বাটন দেখতে পাবেন সেটি অন করে দিন।

এতে পিন এপস লকড হয়ে থাকবে আর কোনো এপস এ প্রবেশ করা যাবে না প্রবেশ করতে হলে ফোনের মেইন লক্টি খুলতে হবে তাই কারো কাছে ফোন দেয়ার পরে চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

১০. স্পিচ টু টেক্সট/ভয়েস টাইপিং

ফাইনাল ট্রিক্সটি হচ্ছে স্পিচ টু টেক্সট। অনেক সময় আমরা চাট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই, কিংবা লম্বা কোনো টেক্সট লিখতে হবে সেটা টাইপ করতে করতে অনেক টাইম লেগে যাবে। কিন্তু আপনি যদি এই এপসটি ব্যবহার করেন তাহলে আপনি মুখ দিয়ে যা বলবেন সেটা অটোম্যাটিক টাইপ হয়ে যাবে।

এতদিন শুধু মাত্র ইংরেজীতে হত এখন কিন্তু বাংলায় ও হয় এবং বেশ স্পষ্ট ভাবে হয়। অনেক কঠিন কঠিন শব্দ ও টাইপ করে ফেলতে পারেন। তাই আপনারা চাইলেই এই ফিচার ইনজয় করতে পারেন। জি-বোর্ড এবং বাংলাদেশের পরিচিত রিডমিক কীবোর্ডেও এই ফিচারটি রয়েছে। সময় এবং কাজকে সহজলভ্য করার জন্য এটি প্রতিদিন আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উপসংহার

আশা করি উপরের ১০ টি টিপস এন্ড ট্রিক্স আপনার ডিজিটাল দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। ছোট ছোট টিপস গুলো গুরুত্বপূর্ন কাজের সময় অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তাই একটু সময় নিয়ে শিখে রাখলে অনেক ভালো কিছু করা যাবে।

1 thought on “১০টি সেরা এন্ড্রয়েড এপস টিপস এন্ড ট্রিক্স”

Leave a Comment